মনজুরুল ইসলাম

মেঘলাকাশে শুভ্র শেফালী পর্ব-৩

তিন

মাধ্যমিকে উচ্চ মাত্রার ফল প্রাপ্তির পর একটি বিশেষ সুখানুভূতির পাশাপাশি একটি দুশ্চিন্তাও বিধ্বস্ত করে তুলছে শেফালীকে। কখন, কোন কলেজে কিংবা কীভাবে ভর্তি হবে সে বিষয়গুলি বিবেচনার ক্ষেত্রে মেঘলা আপার ওপর পূর্ণ আস্থা থাকলেও অবচেতন উদ্বেগ ওর চেতনাকে আন্দোলিত করছে। মেঘলা আপার সাথে বিষয়টি নিয়ে যে কথা বলবে সে সাহসটিও পাচ্ছে না। দ্রুতই শেফালীর মনের অবস্থাটি অনুমান করতে সক্ষম হলেন মেঘলা। শেফালীকে কাছে ডেকে নিয়ে বললেন-
‘‘এত চিন্তা করছিস কেন? আমি আছি না। সব থেকে ভালো কলেজটিতেই তোকে ভর্তি করাবো। আর যেন এমন বিষণœ না দেখি তোকে।” কথাগুলি শুনবার সাথে সাথেই শেফালীর শারীরিক অবয়বটি দ্রুতই যেন চঞ্চলা হরিনীর মতো চপলতার একটি আবেশ লাভ করলো।

নির্দিষ্ট সময়েই সকল আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করে শেফালীকে সুবর্ণগ্রাম সরকারি কলেজে ভর্তির ব্যবস্থা করলেন মেঘলা। বই পত্র ও কলেজ ড্রেসসহ টুকিটাকি কোনো ধরনের কেনাকাটাই বাকী রাখলেন না। প্রথম ক্লাসের জন্যে অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছিল শেফালী। কিন্তু আকস্মিক অসুস্থতায় কলেজে যাওয়া হলো না। ডাক্তারের পরামর্শে হাসপাতালে ভর্তি হতে বাধ্য হতে হলো। নিস্পন্দ দেহে সপ্ত্হা খানেক ধরে হাসপাতালের বিছানায় শুয়ে আছে শেফালী। ভুগছে একটি জটিল রোগে। প্রথম দিকে শঙ্কা থাকলেও এখন আর নেই। মেঘনীল গ্রাম থেকে সুবর্ণগ্রামে বদলীর বেশ কিছু সময় পেরিয়ে গেছে মেঘলার। তারপরেও শেফালীর কথা ভেবেই ছুটি নিয়েছেন অফিস থেকে। নিরন্তর ছুটে চলেছেন। ডাক্তার, নার্স, ফার্মেসি, বাজার সবখানেই। যে কোনো মূল্যে সুস্থ করতে হবে শেফালীকে, পৌঁছে দিতে হবে ওকে সাফল্যের শীর্ষ সিঁড়িতে-এই প্রত্যয়ে। আবেগীয় হৃদ্যতা ও প্রকৃত ভালোবাসার মেলবন্ধন যে রক্তের সংস্পর্শবিহীন সম্পর্ককে রক্তের সম্পর্কের চাইতেও অধিকতর নিবিড় করে তুলতে পারে সেটিই প্রতিষ্ঠিত হতে চলেছে মেঘলা ও শেফালীর মাঝে।

ক্লান্তিহীন প্রচেষ্টা ও হৃদয়ের এক বুক ভালোবাসার স্পন্দনে সুস্থ হয়ে উঠেছে শেফালী। হাসপাতাল থেকে বাসায় আসবার দশদিন পেরিয়ে গেছে। গ্রীষ্মকালীন ছুটি থাকায় কলেজে যাবার কোনো তাড়া ছিল না। তাই পূর্ণ বিশ্রামে ছিলো। শিশিরের স্বচ্ছ শুভ্র ফোঁটার মতো সতেজতা ছড়িয়ে পড়েছে ওর চোখেমুখে। সুবর্ণগ্রামে আসবার পূর্বে মলিন ছিল ওর মুখখানি। এখন সে মলিন বর্ণটি রূপান্তরিত হয়েছে দীপ্তিমান বাদামী বর্ণে। মলিনতা কেটে গিয়ে শরতের মেঘহীন আদিগন্ত বিস্তৃত নীলাকাশে পূর্ণচন্দ্রের বিভাটিই যেন প্রক্ষিপ্ত হয়েছে গোটা মুখম-লজুড়ে। শীর্ণ শরীরটি ততটা পুষ্ট না হলেও ওর মাথার কৃষ্ণবর্ণ এলোচুলগুলি ওর সৌন্দর্য বাড়িয়ে দিয়েছে কয়েকগুণ। রূচিসম্মত পোশাকে ফুটে উঠেছে শহুরে ভাবটি। বাচনভঙ্গি, আচরণ, শিষ্ঠাচারসহ সবকিছুতেই এসেছে অবর্ণনীয় পরিবর্তন। হাসপাতাল থেকে আসবার পর থেকেই নীরব বাসাটিতে ফিরে এসেছে অস্থির চঞ্চলতা।

মেঘলার মাকেও বেশ প্রফুল্ল দেখাচ্ছে আজ। একমাত্র ছোট ভাই এসেছেন। সঙ্গে স্ত্রী ও পুত্র। স্বামীর মৃত্যুর পর এই ভাইটিই বটবৃক্ষের মতো আগলিয়ে রেখেছেন তার পরিবারটিকে। মেঘলার পড়াশুনার দায়িত্ব নিষ্ঠার সাথে পালন করেছেন। অত্যন্ত রাশভারি। শিক্ষকতা করেন একটি বেসরকারি কলেজে। সমাজবিজ্ঞান পড়ান। পাশের পাড়াতেই থাকেন। অনেক দিন ধরে চেষ্টা করছেন মেঘলার বিয়ে দেবার। কিন্তু পারছিলেন না। বেসরকারি সংস্থায় চাকরির কথা শুনে সবাই পিছিয়ে যাচ্ছিলেন। অনেকেই প্রমাণ ছাড়াই মেঘলার চরিত্র সম্পর্কে নেতিবাচক ধারণা পোষণ করতেন। বয়স ত্রিশ পেরিয়েছে। সঙ্গত কারণেই বিষয়টি অসীম ভাবনার হয়ে দাঁড়িয়েছিল পরিবারের কাছে। আজ পাত্রপক্ষের পাকা কথা নিয়ে এসেছেন মামা। খবরটি মেঘলার মায়ের আনন্দের মাত্রাটিকে বাড়িয়েছে বহুগুণ। নিজেও যে বেশ খুশী বোঝা যাচ্ছে। পাত্র ব্যাংকার। গত মাসেই দেখে গিয়েছিলেন। সামনের মাসের প্রথম সপ্তাহেই বিয়ে। আড়াল থেকে সবকিছুই শুনেছেন মেঘলা। সময় স্বল্পতার কারণে প্রস্তুতি নিয়েই এসেছেন মেঘলার মামী। সানন্দ চিত্তে মামী ও মামাতো ভাইয়ের সাথে শপিংয়ের জন্য রওয়ানা হলেন মেঘলা। মামীকে অত্যন্ত শ্রদ্ধা করেন তিনি। দুঃসময়ে মামার সহযোগিতায় বিরোধিতা না করে বরং সহযোগিতাই করেছিলেন। বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নকালীন নিয়ত খোঁজখবর রেখেছিলেন। একমাত্র মামাতো ভাই আবীর পড়াশুনা করছে ময়মনসিংহ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে। মামার নিষেধ সত্ত্বেও মামাতো ভাইটির পড়াশুনার ব্যয় নির্বাহ করছেন মেঘলা। গোলাপের মতো তরতাজা ও প্রাণবন্ত দেখাচ্ছে আজ মামীকে। দীর্ঘদিন ধরে প্রত্যাশা করে আসছিলেন তিনি এই মুহূর্তটির। কাক্সিক্ষত মুহূর্তটি যে অকৃত্রিম সুখের সৃষ্টি করেছে তা তার আয়তনয়ন ও বুদ্ধিমতী মুখখানিজুড়ে স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। মনে উচ্ছল আনন্দ নিয়ে শপিং করলেন মেঘলার জন্য। নিজেদের পাশাপাশি শেফালীর জন্যেও কিনলেন একটি থ্রি-পিস। সূর্যাস্তের পূর্বেই মেঘলাকে বাসায় পৌঁছে দিয়ে চলে গেলেন নিজ বাসায়।

শপিংয়ে যাবার পর থেকেই মেঘলা আপার জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছিল শেফালী। মেঘলা আপা আসবার সাথে সাথেই যেন হাঁফ ছেড়ে বাঁচলো ও। রুমে প্রবেশ করেই শেফালীর হাতে একটি ব্যাগ দিয়ে ওর মুখের দিকে তাকিয়ে বললেন মেঘলা-
“ ভেতরে একটি থ্রি-পিস আছে, এখনই পড়ে আমার সামনে এসে দাঁড়া।’’কতকটা লজ্জাবনত দৃষ্টিতে মেঘলা আপার দিকে একবার তাকিয়ে আর দাঁড়াবার সাহস পেল না শেফালী। দ্রুত ব্যাগটি হাতে নিলো। কিছু সময় পর গোলাপী রঙের থ্রি-পিসটি পড়ে অত্যন্ত ধীর গতিতে আড়ষ্টতায় আচ্ছন্ন হয়ে মেঘলা আপুর সামনে এসে দাঁড়ালো। শেফালীকে দেখে উচ্ছ্বসিত হলেন মেঘলা। গোলাপী জামায় এত অপূর্ব লাগবে ওকে ভাবতে পারেন নি তিনি। বিষয়টি গভীরভাবে লক্ষ করে ওকে কাছে টেনে নিয়ে বললেন-
“ তুই যে এত সুন্দর আগে তো বুঝতে পারি নি, সত্যিই অপূর্ব লাগছে তোকে।’’

এরপর মেঘলা আপুকে কোনো কথা বলবার সুযোগ না দিয়ে ছোট্ট করে শেফালী বললো,‘‘ আপু, আমি যাই।’’ যে মুহূর্তে শেফালী কক্ষটি ত্যাগ করলো ঠিক সে মুহূর্তেই কলিংবেলটি বেজে উঠলো। দরোজার কাছে গেল শেফালী। দরোজাটি খুলবার পরপরই রীতিমতো স্তম্ভিত হয়ে উঠলো। কোনো খবর না দিয়ে ওর বাবার আগমন এই স্তম্ভিত হবার নেপথ্য কারণ। ওর বাবার বয়স চল্লিশের আশেপাশে। কালো বর্ণের শক্ত শরীর। হালকা সাদা কালো দাঁড়ি। গোঁফগুলি ছাটা। অতিরিক্ত তেলের কারণে চিকচিক করছে চুলগুলি। লুঙ্গী ও নীল রঙের পাঞ্জাবী পরিহিত। হাতে একটি ব্যাগ রয়েছে। ব্যাগের ভেতর কিছু সবজি। ভিন্ন কোনো কথা না বলেই বাবাকে জড়িয়ে ধরলো শেফালী -
‘‘ হঠাৎ কইরা তুমি চইলা আইলা, একডি খবর দিয়া তো আইতে পারতা।’’ আলিঙ্গনাবদ্ধ অবস্থায় বাবাকে বললো শেফালী। এবার আলিঙ্গন মুক্ত হয়ে মেঘলা আপুর উদ্দেশ্য বললো,‘‘ আপু, আমার বাবা এসেছে?’’ ওর বাবা আসবার কথা শুনে দ্রুত ভেতরে নিয়ে আসতে বললেন মেঘলা। নিজেও শেফালীর বাবার কাছাকাছি এসে জিজ্ঞেস করলেন,‘‘এতদিনে মনে পড়লো তাহলে মেয়ের কথা। আপনি এসেছেন আমি খুব খুশী হয়েছি। এখন ফ্রেশ হন, কিছু খান, তারপর কথা বলা যাবে।’’ এ কথাটি শুনবার পর কিছুটা বিব্রত দেখালো শেফালীর বাবাকে। বিষয়টি লক্ষ করে পুনরায় শেফালীর বাবাকে বললেন মেঘলা, “এত দিন বাদে এসেছেন, না খেলে কি হবে। তাছাড়া আমিও তো আপনার আর একটি মেয়ে।’’ এ কথাটি বলেই বাথরুম দেখিয়ে দিলেন মেঘলা শেফালীর বাবাকে। ফ্রেশ হয়ে সোফায় বসবার পূর্বেই বাবার জন্য নাস্তা প্রস্তুত করে বসে আছে শেফালী। বাবার নাস্তা খাবার মাঝেই তার পাশে এসে বসলো শেফালী। বিস্ময়ে চোখ তুললেন শেফালীর বাবা। বাবার চোখের দিকে চোখ রেখে শেফালী বললো, ‘‘ আব্বা, আমি কলেজে ভর্তি অইছি, আপু আমারে ব্যাকটি বই কিইন্যা দিছে, তুমি দেইখো, আমি পড়াশুনা কইরা অনেক বড় হমু। মেঘলা আপু আমারে এইহানে না আনলে আজ বিয়্যা কইরা আমার জীবনডাই শেষ অইয়া যাইতো। তুমি খুশী হও নাই বাবা?”

‘‘খুশী হমু না মানে, কোনো বাপমাই কি সন্তানের লেখাপড়ার উন্নতি দেইখ্যা খুশি না হইয়া পারে। আমি খুবই খুশী হইছি। তর বাবার পরিচয় দিতে অহন আমার গর্ব অইতাছে।’’ কথা বলবার মাঝেই আপেলের একটি টুকরো মেয়ের মুখের কাছে ধরে বললেন,‘‘ এইডি তুই খা মা।’’ শেফালী আপেলের টুকরোটি খেয়ে নিয়ে বাবাকে নাস্তার সব উপকরণ একটি একটি করে খাওয়ালো। খাওয়া শেষে শেফালীর বাবা মেয়ের আরো কাছে আসলেন। শক্ত হয়ে বলতে থাকলেন,“ দেখরে মা, আমি আইছি তোরে লইয়্যা যাওনের লাইগ্যা। তর মায়ে খুবই অসুস্থ। কয়েকদিন থাইক্যা অনবরত জ্বর। কিছুতেই কমতাছে না। আর ঘুইরা ফিইর‌্যা খালি তর কথাই কইতাছে-তুমি যেমন কইর‌্যা পারো আমার শেফালীরে আইন্যা দ্যাও। যদি মইরা যাই তাইলে তো ওর লগে আর আমার দেখাই অইবো না। এর লাইগ্যা আমি আইছি, তুই কি কস? ’’
‘‘আমি আর কি কমু! মায়ে যদি বিছানাতে পইড়্যা থাকে তাইলে আমাগের কী অইবো?- এর মধ্যেই শেফালীর দু’চোখে অশ্রুর আগমন ঘটেছে। ডান হাত দিয়ে চোখ দুটি মুছে নিয়ে আবারও বললো,“ আপুরে কও, আমিও কমু। আমি জানি, ব্যাগডি শুনলে আপুও আর না কইবার পারবো না।’’ কিছুক্ষণ বাবা মেয়েতে আর কোনো কথা হলো না। দুজনেই নিশ্চুপ রইলো। শেফালীর ভালো ফলাফলের খবরটি মেঘনীল গ্রামে একটি বিশেষ আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। নিয়ত ওর জন্য বিয়ের প্রস্তাব আসা অব্যাহত রয়েছে। এই মুহূর্তে মেয়ের মানসিক অবস্থা দেখে বিষয়টি আলোচনা করলেন না শেফালীর বাবা। তাছাড়া শেফালী যে এতে রাজী হবে না সেটিও ভালো করে বুঝতে পারলেন তিনি। বাবা-মেয়ের এই নিশ্চুপতার মাঝেই ড্রইংরুমে প্রবেশ করলেন মেঘলা। প্রবেশ করেই শেফালীকে জিজ্ঞেস করলেন,‘‘ কিরে শেফালী, বাবার সঙ্গে মন খুলে কথা বলেছিস তো?

‘‘হ্যাঁ আপু, মন খুলেই কথা বলেছি। আমার মা খুব অসুস্থ।’’ শেফালীর মায়ের অসুস্থতার কথাটি শুনবার পর শেফালীর বাবার দিকে তাকাতেই তিনি বললেন-‘‘হ, হ্যার মাই-ই তো আমারে পাডাইলো। জ্বরে আবোল তাবোল কতা কয় আর খালি শেফালীরে দেখবার চায়। ওরে আমি লইয়া যাইতে চাই।’’
শেফালীর বাবার মুখে কথাগুলি শুনবার পর কথা না বাড়িয়ে তার প্রস্তাবকে সহজ চিত্তে মেনে নিয়ে বললেন মেঘলা, ‘‘ ঠিক আছে, এমন অবস্থায় মেয়েই তো মায়ের পাশে থাকবে। এখানে কোনো প্রশ্ন নেই। আপনি ওকে নিয়ে যান। তবে আপনাকে আমি একটি আগাম আমন্ত্রণ জানিয়ে রাখি। আগামী মাসের প্রথম সপ্তাহে আমার বিয়ে। বিয়েতে আপনি, শেফালী, শেফালীর ভাইবোন এবং চাচী যদি সুস্থ থাকে তবে অবশ্যই আসবেন। আমি নিজেই আপনাদের বাড়ীতে যেতাম। কিন্তু যেহেতু আপনি এসেছেন তাই এখানেই দাওয়াত করলাম। এতে আবার কিছু মনে করবেন না।’’

‘‘না না, আপনে দাওয়াত না করলেও আমারে আসতে অইতো। শেফালী যেমন আমাগো একডি মাইয়া, হ্যার লগে লগে আপনিও তো আমাগো একডি মাইয়্যা।’’

ভরপুর হাসিমাখা মুখে বললেন শেফালীর বাবা। কথা বলবার সময় তার হলদে দাঁতগুলি বেরিয়ে আসলো। তবে তার কথাগুলিতে তৃপ্ত হলেন মেঘলা। উচ্ছ্বসিত হয়ে বললেন,‘‘ আজ আপনাদের যাওয়া হবে না। রাতে থেকে কাল যাবেন।’’ কিছুটা দ্বিধা থাকলেও মেঘলার কথার কোনো প্রতিবাদ করতে পারলেন না শেফালীর বাবা। মেঘলার আন্তরিকতাই বাধ্য করলো তাকে রাত্রি যাপনের আহ্বানে সম্মতি জানাতে। এসব কথা বলতে বলতে অনেকটা সময় পেরিয়ে গেছে। বিকেল গড়িয়ে প্রায় সন্ধ্যে হয়ে এসেছে। ধীরে ধীরে যামিনীর সান্ধ্য মূর্তি বিকশিত হতে থাকবে গোটা শহরজুড়ে। সময়ের সাথে সাথে ডুবে যাবে একটি শান্ত প্রচ্ছন্ন নিস্তব্ধতার গভীরে। রাত্রি গভীর হবার পূর্বেই ওরা সবাই রাতের খাবার খেয়ে নিয়ে এক এক করে ঘুমিয়ে পড়লো।

magnifiercrossmenu