ভালোবাসা কি অপরাধ? ভালোবাসাকে আপন করে নিতে, একটু শান্তির খোঁজে, সত্যেই কি অনেক কিছু হারাতে হয়? এমন নানা প্রশ্নের আনাগোনা মিলনের মনে। সমস্যার সাগরে নির্জন দ্বীপে একাই সমাধান খুঁজে ফিরে মিলন।
অজপাড়া গাঁয়ের ছেলে মিলন। গ্রামের একদম শেষ প্রান্তে মেঠো পথের যেখানে শেষ, মিলনের আধপাকা বাড়িটি সেখানেই। মাঠই যেন মিলনের বাড়ির উঠান। কাশিপুর নামক অজপাড়াগাঁয়ে তার বেড়ে ওঠা, যেখানে সকালের সূর্য উঠার পূর্বেই কৃষক জেগে ওঠে। কৃষকের ডাকাডাকি, লাঙলের শব্দ আর মাটির গন্ধে ঘুম ভাঙে প্রকৃতির। কৃষক পরিবারে জন্ম হওয়ায় পড়ালেখার পাশাপাশি কৃষি কাজে চরম পরিশ্রম করে সে। নানা জাতের সবজি ফলানোতে বেশ দক্ষ মিলন। তার যত্ন আর ভালোবাসায় মাঠের সেরা চাষী হয়ে ওঠে মিলন। মাটিপুত্র মিলনের সরলতা ছিল জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ। দুই ভাই-বোনের মধ্যে মিলন বড়। তার কাঁধে দায়িত্বের ভারী বোঝা। এত কিছুর মাঝেও সাহিত্যের প্রতি তার প্রগাঢ় ভালোবাসা। মিশুক মিলন নিজের জীবন-জীবিকার চেয়ে সামাজিক কাজগুলোকেই বেশি গুরুত্ব দেয়।
উচ্চমাধ্যমিক শেষে করে মিলন কুষ্টিয়া সরকারি কলেজে বাংলা বিভাগে ভর্তি হয়। সাহিত্য যেন তার মনের খোরাক। সাহিত্যের বই পেলে বাচবিচার ছাড়াই সে পড়ে ফেলে। বইপোকা বলতে যা বুঝায় মিলন তাই। বই পড়ার নেশায় সে নিয়মিত শহরের স্বয়ম্ভর লাইব্রেরিতে আসে। সাহিত্যের বইগুলি নেড়েচেড়ে দেখে। প্রায় প্রতিটিই বই-ই তার পড়া। মিলন বলেন- ইশ! জীবনটা যদি উপন্যাসের মত হত! মাঠ-বাড়ি আর লাইব্রেরি এভাবেই চলছিল তার নিত্যদিন। সহসা স্বাভাবিক জীবনে ঘটল ছন্দপতন ।
জুলাইয়ের শুরুতেই দেশের রাজনৈতিক পরিবেশ অস্থির হয়ে ওঠে। সেই অস্থির রাজনীতিতে নিজেকে জড়িয়ে ফেলে মিলন। ২০২৪ সালের স্বৈরাচার পতনের আন্দোলনে তার অংশগ্রহণ ছিল চোখে পড়ার মতো। বিভিন্ন মিছিলে ছিল তার সরব উপস্থিতি, যা তাকে সরকারি দলের চক্ষুশূল করে তুলেছিল। চারিদিক থেকে সরকারি দলের হুমকি-ধামকিও তার দৃঢ় মনোবলে ফাটল ধরাতে পারেনি। কঠিন চোয়ালে বজ্রকঠিন সংকল্প করে বলে- হয় মৃত্যু না হয় পতন। স্বৈরাচারের পতন ঘটাতেই হবে। ৫ই আগস্ট দুপরে খবর আসে স্বৈরশাসক পালিয়েছে। জনতার বাধ ভাঙা আনন্দমিছিলে যখন সবাই উল্লাসে ফেটে পড়ছিল, জনতার সে মিছিলে মিলন ছিল সবার আগে। তার চোখে ছিল নতুন দিনের স্বপ্ন, মাথায় লাল-সবুজ পতাকা আর মুখে বিজয়ের হাসি।
এই আনন্দ আর মুক্তির একদিন পরেই দেশের দেয়ালে দেয়ালে দেয়াল লিখন শুরু হল। নানা স্লোগান,বাণী আর দেয়ালচিত্রে রঙিন হয়ে গেল চারিপাশ। স্বৈরাচার পতনের উল্লাস যেন প্রতিটি দেয়ালে। স্বৈরাচার এরশাদ পতনের পুরানো স্লোগান- স্বৈরাচার নিপাত যাক, গণতন্ত্র মুক্তি পাক—নতুন করে প্রাণ পেল। তেমনই এক দেয়াল লিখনের দিনে আগস্টের তেরো তারিখে আলমডাঙ্গা থানার সামনে চায়ের দোকানের পাশে মিলনের সাথে পরিচয় হলো এক শান্ত, মৃদুভাষী মেয়ের। মেয়েটির নাম জুঁই। সে আলমডাঙ্গা মহিলা কলেজের একাদশের শিক্ষার্থী। তার চোখে-মুখে চপলতা আর মুখে ছিল এক স্নিগ্ধ মায়বী হাসি। সুহাসীনী-সুকেশী জুঁই ঝড় তুলে ছিলো মিলনের মানসপটে।
প্রথম দেখাতেই মিলন মুগ্ধ হয়। জুঁইয়ের হাতে ছিল তুলি আর রঙের কৌটা। সে খুব মনোযোগ দিয়ে দেয়ালে রং করছিল। দেয়াল লেখনির ফাঁকে ফাঁকে মিলন আড়চোখে জুঁইকে দেখছিল। জুঁই বুঝতে পারে ছেলেটি তাকে লুকিয়ে লুকিয়ে দেখছে। এই অতিরিক্ত গুণটি সব মেয়েদেরই থাকে। নিজের মনকে বুঝার সক্ষমতা না থাকলেও ছেলেদের মন ঠিকই বুঝে। এটা বিধাতা প্রদত্ত নারীকূলের বিশেষ রহমত। ব্যাপারটা নিশ্চিত হওয়ার জন্য সে একটু দূরে সরে যায়। কিছুক্ষণ পরে মিলনও তার কাছাকাছি চলে আসে। জুঁই পাশে থাকলে মিলন বিরতিহীন কথা বলে। আবার একটু অদেখা হলে খুঁজে ফেরে। জুঁইয়ের বুঝতে আর কোন কিছুই বাকি থাকে না।
জুঁইয়ের শান্ত অথচ দৃঢ় ব্যক্তিত্ব মিলনকে প্রবলভাবে আকর্ষণ করে। আলমডাঙ্গার কয়েক শত তরুণ মিলে শহরের বিভিন্ন স্থানে একের পর এক স্লোগান লিখতে থাকে। মিলন নিবিড়ভাবে দেখছিল, জুঁই শুধু স্লোগানই লিখছে না, সে প্রতিটি অক্ষরে যেন তার মনের কথা ফুটিয়ে তুলছে। সুযোগ পেলে সেও গোপন প্রিয়ার চকিত হরিণ চাহনীতে মিলনকে দেখছে। কয়েক দিনের বিরামহীন দেয়াল লিখনের সময় তাদের পরিচয় আরও গভীর হলো। দেয়াল লিখনের অবসরে তারা একে অপরের পরিবার,স্বপ্ন, আদর্শ আর ভবিষ্যৎ ভাবনা নিয়ে কথা বলে। একসময় মিলন-জুঁই বুঝতে পারে, তাদের দুজনের ভাবনাগুলোতে রয়েছে এক অসাধারণ মেলবন্ধন। দেয়াল লিখনের শেষে বিকেলে বাসায় ফেরার আগ মুহূর্তে দুরুদুরু বুকে মিলন জুঁইয়ের কাছে যায়। কিছু মনে না করলে আমি কি আপনার ফোন নম্বরটা পেতে পারি। জুঁইও মনে মনে মিলনের সাথে যোগাযোগ করার মাধ্যম খুঁজতে ছিল। কিন্তু লজ্জায় তা প্রকাশ করতে পারেনি।
এরপর প্রায় প্রতিদিনই তাদের কথা হয় দেখা হয় । কখনো আলমডাঙ্গা সরকারি কলেজের পুকুর পাড়ে, যেখানে শান বাঁধানো ঘাটে শিউলি ফুল ফুটে থাকে। রাতের ঝরে থাকা শিউলি ফুল দিয়ে জুঁই মালা গাঁথে। মিলনের হাতে জড়িয়ে দেয়। মিলন সেই মালা জুঁইয়ের খোঁপায় গুঁজে দেয়। জুঁই মিলনকে বলে- তুমি সারাজীবন শিউলি ফুলের সৌরভ নিয়ে আমার পাশে থেকো। হারিয়ে যাবে না তো!
কখনো বা শহরের কোনো চায়ের দোকানে বা স্বয়ম্ভর লাইব্রেরিতে। মাঝে মাঝে তারা শহরের কোলহল ছেড়ে রেল লাইনে হাত ধরে হাটে। হঠাৎ জুঁই গেয়ে ওঠে- এই পথ যদি না শেষ হয় তবে কেমন হত তুমি বলতো? মিলনও তার সাথে গলা মেলায়।
হাটতে হাটতে মিলন একগুচ্ছ বুনো ফুল তুলে জুঁইয়ের কানে আর খোপায় গুঁজে দেয়। তারা দুজন হয়ে ওঠে সাহিত্যের বাস্তব চরিত্র। সাহিত্য, রাজনীতি, সমাজ আর ভবিষ্যৎ স্বপ্ন নিয়ে চলে তাদের দীর্ঘ আলাপচারিতা । মিলন অনুভব করে, জুঁইয়ের জ্ঞানের গভীরতা তার বয়সের তুলনায় অনেক বেশি। মৃদুভাষী জুঁইয়ের কথায় ছিল এক ভিন্ন ধরনের পরিপক্কতা, যা মিলনকে আরও মুগ্ধ করল। জুঁইয়ের মাঝে মিলন খুঁজে পেল এক মমতাময়ী ও প্রেরণাদায়ী প্রিয়সী নারীকে। যে প্রিয়সীকে প্রত্যেক পুরুষ কামনা করে। জুঁইও মিলনের গভীর চিন্তাভাবনা, দেশপ্রেম আর সমাজের প্রতি তার দায়বদ্ধতায় মুগ্ধ হয়। দিনের পর দিন তারা দু’জনই একে অপরের জীবনে এক অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে ওঠলো।
স্বৈরাচার পালিয়ে যাওয়ার পর তিন দিন দেশে ন্যায় সংগত কোন সরকার ছিল না। নতুন এক সরকার শপথ নিল। ঠিক সে সময়ে আগস্টের শেষ দশকে প্রবল বন্যার পানিতে দেশের পূর্বাঞ্চলের কয়েকটি জেলায় লক্ষ লক্ষ মানুষ পানি বন্দি হয়ে পড়ে। মানবিক প্রয়োজনে উপজেলা থেকে লক্ষ্মীপুর জেলাতে একটি ত্রাণ বিতরণ ও বন্যাকবলিত ব্যক্তিদের উদ্ধারের জন্য টিম পাঠানো হল । সে টিম মুসাব, সাদি, ফিরোজদের সাথে অন্যতম সদস্য হিসেবে ছিল মিলন। মানুষের সেবা করাই যেন মিলনের সহজাত ধর্ম।
কয়েক মাস পেরিয়ে গেল। মিলন তার পড়ালেখা শেষ করে গ্রামে ফিরে এলো। কিন্তু তাদের ভালোবাসা দিন দিন গভীর থেকে গভীরতর হলো। তারা ফোনে, মেসেজে একে অপরের খোঁজ-খবর নিত। দূরত্বের কারণে তাদের ভালোবাসায় কখনোই ভাটা পড়েনি, বরং তা আরও মজবুত হয়েছে। অবশেষে মিলন সিদ্ধান্ত নিল আর লুকোচুরি নয়। জুঁইকে তার পরিবারের সাথে পরিচয় করিয়ে দেবে। তাদের সম্পর্কের কথা সবাইকে জানাবে।
সবকিছু মানুষের চিন্তার সমান্তরালে চলে না। মিলন চাইলেও ঈশ্বর হয়তো তখনই মিলন-জুঁইয়ের মিলন চায়নি। হঠাৎ মিলন খুব অসুস্থ হয়ে পড়ে। সবার মাঝে চরম হতাশা। মিলনকে নিয়ে তার পরিচিত জনরা আপসোস করে। তার খোঁজ-খবর নেয়। সবার চোখেই পানি আসে। স্থানীয় জেলা হাসপাতালে তার চিকিৎসা হল না। ভর্তি করা হল রাজশাহী মেডিকেল হাসপাতালে। তারাও তার সঠিক চিকিৎসা দিতে পারল না। নিরুপায় হয়ে তাকে গ্রামে ফিরিয়ে আনা হয়। মিলনের আয়ু প্রায় শেষ হয়ে এসেছে। বেড হতে ওঠতে পারে না। নাকে-মুখে মাছি বসে; তাতেও মিলন নিথর। তার হাত-পা যেন অবশ, নড়া-চড়া নেই। সারাক্ষণ বিছানায় পড়ে থাকে। মাঝে মাঝে তার স্বজনেরা পাশ পরিবর্তন করে দেয়। চারিদিকে কান্নার রোল ।
মিলনের গ্রামের বাড়িতে মানুষের আনাগোনা বেড়েছে। সবসময় ভীড় লেগেই থাকে। মিলন হয়তো আর বাঁচবে না। মাঝে কয়েকবার তার মৃত্যুর খবরও ছড়িয়ে পড়ে। মিলনের বাড়িতে হঠাৎ কান্নার আওয়াজ শুনলেই প্রতিবেশিরা ছুটে যায়। এই বুঝি মিলনের প্রাণ চলে গেল। অনেকে শেষ বারের মতো ছেলেটিকে দেখতে যায়। শেষবার যে কত বার হয় তারা নিজেরাও জানে না। বাবা মায়ের একমাত্র ছেলে মিলন; তাদের মুখের দিকে তাকানো যায় না। মিলন যে স্বয়ম্ভর লাইব্রেরিতে নিয়মিত যেত মিলনের অনুপস্থিতি সেখানেও দেখা দিয়েছে বিরাট শূন্যতা । মিলনকে শেষবারের মতো দেখার জন্য ফিরোজ,সাব্বির,রাব্বি,রাকিব’রা তার বাড়ি যায়।
সবাই যখন মিলনের বাঁচার আশা ছেড়ে দিয়েছে তখনও জুঁই মিলনের পাশে ছিল। স্বার্থপরের মতো সে মিলনকে ছেড়ে যায়নি। জীবন-মরণ সন্ধিক্ষণেও জুঁই মিলনকে সাহস দিয়েছে, সেবা করেছে। সবাই যখন হাল ছেড়ে দিয়েছে তখনও জুঁই সেবা যত্ন আর বিধাতার কাছে দিন-রাত প্রার্থনা করছে। মিলনের সুস্থতার জন্য জুঁই কত রাত নির্ঘুম কাটিয়েছে তার শরীর আর চোখ দেখলেই বুঝা যায়। নাদুসনুদুস মেয়েটা ঘুম আর খাওয়ার অনিয়মে একদম শুকিয়ে গেছে। চোখদুটি বসে গেছ, চোখের নিচে কাল দাগ স্পষ্ট হয়ে ওঠেছে। কণ্ঠস্বর ক্ষীণ হয়ে গেছে। তাকে দেখে চেনাই যায় না। মিলনের প্রবল ইচ্ছা শক্তি, জুঁইয়ের সেবা আর বিধাতার কৃপায় মিলন এ যাত্রায় বেঁচে যায়। ধীরে ধীরে সুস্থ হয়ে ওঠে।
সুস্থতার কয়েক মাস পর মিলন জুঁইকে বিয়ে করে ঘরে নিতে চায়। বিষয়টি মিলন তার মা-বাবাকে জানায়। কিন্তু মিলনের মা-বাবা বিয়েতে অসম্মতি জানায়। তারা জানায় মিলন একটি চাকরি জোগাড় করুক তার পরে তাদের বিয়েতে পরিবারের কোন আপত্তি থাকবে না। এদিকে জুঁইয়ের পরিবার থেকে মিলনকে বারবার বিয়ের জন্য জোরা জোরি করে। মিলন জানায়- বিয়ে না করলে তারা জুঁইকে অন্য কোথাও বিয়ে দিবে। মিলন জুঁইকে প্রচন্ড ভালোবাসে। যেকোন মূল্যে জুঁইকে তার চায়। প্রকৃত ভালোবাসা মানুষকে সাহসী করে তোলে। মিলন শহরের একটি দোতলায় বন্ধু ও জুঁইয়ের পরিচিত জনদের উপস্থিতে বিয়ের প্রতিশ্রুতি দেয়।
মিলন প্রতিশ্রুতি দিল ঠিকই কিন্তু তা গোপন রাখলো। মুষ্টিমেয় ৫-৬ জন বন্ধু ছাড়া বিষয়টি বাইরের কেউ জানলো না। এদিকে মিলন তার মা-বাবাকে বিয়েতে রাজি করানো চেষ্টা অব্যাহত রাখে। শেষবধি মিলনের পরিবার একপ্রকার বাধ্য হয়ে বিয়েতে সম্মতি দেয়।
তাদের প্রতিশ্রুতির কয়েক মাস পরে জুঁইদের বাড়িতে মিলন আর জুঁইয়ের বিয়ে হলো। তাদের বিয়ের অনুষ্ঠানে কোনো জাঁকজমকতা ছিল না, ছিল শুধু ভালোবাসা আর আন্তরিকতা। গ্রামের মানুষজন এবং তাদের নিকটাত্মীয়দের উপস্থিতিতে বিয়ে সম্পন্ন হলো। মুক্ত জীবনের স্বপ্নবাজ দুই তরুণ-তরুণী জীবনের এক নতুন পথে পা বাড়াল। তাদের ভালোবাসা যেন সেই দেয়াল লিখনের মতোই—স্পষ্ট, সাহসী, আর চিরন্তন স্মৃতির প্রতিক। এক সাধারণ গল্পের শুরু হয়েছিল এক অসাধারণ সময়ে, যখন শহরের পুরানো দেয়ালে লেখা হচ্ছিল নতুন ইতিহাস। তাদের ভালোবাসা পূর্ণতা পেল এক মধুর পরিণতির মাধ্যমে। তাদের সম্পর্ক হয়ে গেল জীবন্ত উপন্যাস।
জুঁইকে নিয়ে মিলন পরিবারের সাথে বেশি দিন থাকতে পারল না। নানা জনের নানা কথায় মিলন বাড়ি ছাড়ল ভালোবাসাকে সম্বল করে। সে পরিবার থেকে দূরে আছে নতুন এক প্রত্যয় নিয়ে। স্বপ্নবাজ সাহসী মিলন নতুন উদ্যম নিয়ে জুঁইয়ের হাত ধরে সামনে এগিয়ে যাবে সেই প্রত্যাশা করে। একদিন সে সমাজে প্রতিষ্ঠিত হবে। যদি প্রতিষ্ঠিত নাও হতে পারে; তারপরেও সে ভালোবাসা আর ভালোবাসার মানুষকে হারাতে পারবে না। জুঁই মিলনকে সাহস দেয়। যত অভাব-অনটন আসুক, আমি তোমার হাত ছাড়বো না। বিধাতা কোন না কোন ভাবে চালিয়ে নিবেন। জুঁই বলে- ভালোবাসা দিয়ে আমরা সকল অভাবকে সরিয়ে রাখব। টুনাটুনির এক সাথে চলা বেশ কবছর হয়ে গেল। সেখানে অর্থের আকাল থাকলেও ভালোবাসার নেই। শত কষ্টের মধ্যেও একে অপরকে ভালোবেসে পাশে আছে এটাই তাদের বড় প্রাপ্তি।
মিলন আর জুঁই এখন শহরে একটি ছোট্ট রুম ভাড়া থাকে। মিলন শহরে টিউশনি করে। টিউশনি শেষে তার বাইসাইকেলের পেছেনে জুঁইকে বসিয়ে মনের আনন্দে সারা শহর দাপিয়ে বেড়ায়। শহরে তাদের অন্যতম প্রিয় জায়গা নাজির টি স্টল। দুজন মুখোমুখী বসে চায়ের কাপে পাউরুটি ডুবিয়ে খায়। জুঁই মিলনকে বলে- বিশ টাকার দুধচা আর দশ টাকার রুটিতে যে ভালোবাসা মিশে আছে তা কোটি টাকার রেস্টুরেন্টে হাজার টাকার খাবারে অনুপস্থিত। পথে চলতে চলতে তারা খুনসুটি করে। এই খুনসুটি করা জুটিকে চেনে না শহরে এমন মানুষের সংখ্যা খুব কম। তাদের খুনসুটি দেখে অনেক বৃদ্ধ আপন স্মৃতি রোমন্থন করে। বাসায় ফিরে তারাও মিলন-জুঁইয়ের খুনসুটিকে অনুকরণ করে?
মন্তব্য (০)
এখনও কোনো মন্তব্য করা হয়নি। আপনার মূল্যবান মতামত জানান।
মন্তব্য করতে লগইন করুন
এই লেখাটিতে মন্তব্য বা মতামত প্রকাশ করার জন্য আপনার অ্যাকাউন্টে লগইন থাকা আবশ্যক।