অনুসন্ধান করুন

সিরিয়ান কবি আদোনিস-এর কবিতার অনুবাদ

পড়ার সুবিধা
হরফের আকার:
আদোনিস (জন্ম ১৯৩০, সিরিয়া) আধুনিক আরবি কবিতার অন্যতম শ্রেষ্ঠ কবি। তাঁর আসল নাম আলি আহমদ সাঈদ এসবার। তিনি প্রথাগত কবিতার ধারা ভেঙে নতুন, আধুনিক ও দার্শনিক কবিতার রীতি প্রতিষ্ঠা করেন। তাকে আরবি কবিতার টি.এস. ইলিয়ট বলা হয়ে থাকে।

অনুবাদ: মোস্তাফিজ ফরায়েজী

ভালোবাসা

রাস্তা আর ঘর আমাকে ভালোবাসে–
জীবিত-মৃত সবাই,
আর ঘরের লাল মাটির কলসকে
ভালোবাসে জল।

প্রতিবেশী আমাকে ভালোবাসে;
মাঠ, ধান মাড়াইয়ের উঠোন এবং আগুন
আমাকে ভালোবাসে।

যে পরিশ্রমী হাতগুলো পৃথিবীকে ভালো করে তোলে,
তারাও আমাকে ভালোবাসে–

তবে, তারা কোনো পুরস্কার পায় না।

আমার ভাইয়ের ছিন্নভিন্ন অংশ,
ছিঁড়ে যাওয়া ক্লান্ত বুক–
একটি কর্নেলিয়ান পাথরের মতো
ধানের শীষ ও ঋতুর আড়ালে লুকিয়ে থাকে,
যার কাছ থেকে রক্তও মুখ ফিরিয়ে নেয়।
আমি যতদিন বেঁচে আছি, সে হলো ভালোবাসার দেবতা।
আমি যদি না থাকি, ভালোবাসা তখন কী করবে?


শোকগাথা (আমার পিতার জন্য)

১.
আমার পিতা ছিল একটি আগামীকাল
যে ভেসে আসতো আমাদের দিকে,
আমাদের ঘরের ওপর যখন মেঘ জমত
আমার পিতা তখন একটি সূর্য।

আমি তাকে মাটিচাপা গোপন সত্যের মতো
কিংবা মাটিতে ঢাকা একটি কপালের মতো
ভালোবাসি।

আমি তার ক্ষয়িষ্ণু হাড়গোড় এবং
তার চারপাশের মাটিকেও ভালোবাসি।

২.

আমাদের ঘরের ওপর নীরবতা ঢেউ তোলে,
এক নীরব ক্রন্দন ধীরে ধীরে উঠে উর্ধ্বাকাশে—
আমার পিতা মৃত্যুর দিকে ঢলে পড়ল
একটি মাঠ শুকিয়ে যায়,
একটি চড়ুই উড়ে পালায়।


গোপন

মৃত্যু আমাদের বুকে জড়িয়ে ধরে— বেপরোয়া কিংবা সংযতভাবে,
মৃত্যু আমাদেরকে গোপনের অতল গহ্বরে প্রবাহিত করে
আমাদের বহুবিধ সত্তাকে একীভূত করে।


ঘর

আমাদের ঘরের ভূতেদের গল্প–
দিগন্তসম, আমাদের ঠোঁট ছুঁয়ে যায়,
গুপ্ত হয় লাঙল আর ধান মাড়াইয়ের উঠোনে।

এর ভেতরে
আমরা আমাদের অভিযাত্রায় আলোকিত হই,
অজানার স্বপ্নে।

এর ভেতর থেকেই
আমরা এক মহাবিশ্ব হতে আরেক মহাবিশ্বে লাফ দিই,
এক প্রজন্ম হতে আরেক প্রজন্মে উড়ে যাই।


তারা বলে আমি শেষ

তারা বলে আমি শেষ—
আমার আনন্দের আর অবশিষ্ট নেই,
আমার নেই তেল, নেই শিখা।
আমি গোলাপের পাশ দিয়ে হেঁটে যাই—
আমি হাসি বা কাঁদি, তাতে কীই বা আসে যায়?
গোলাপের ভেতর, আমার চোখের ভেতর,
আমার আত্মার ভেতর আছে এক ভোর—
যেখানে মুছামুছি করি, নিজেকেই মুছে ফেলি।
ভালোবাসি, আমি সৌন্দর্যকে ভালোবাসি—
আমার ভেতরের বোকামিগুলোকে
খুঁজে খুঁজে আমি পূজো করি,
বুকে টেনে নিই।

তুমি তৃষ্ণার্ত—
তুমি কবে বলবে,
“আমি তৃপ্ত”, হে আমার রক্ত?আমি তৃষ্ণার্ত মুহূর্তের জন্য
আমার সব দিবসগুলোকে বাজি ধরতে পারি।
আমি তৃষ্ণার্ত– এক গভীর, উন্মুক্ত হৃদয়ের জন্য।
আমি তৃষ্ণা শিখা জ্বালাব আমার পথজুড়ে,
জীবন এবং মৃত্যুর মাঝামাঝি কোথাও
আমার শিরায় শিরায় লুকিয়ে রাখব।
তুমি তৃষ্ণার্ত—
তুমি কবে বলবে,
“আমি তৃপ্ত”, হে আমার যৌবন, হে আমার রক্ত?

তারা বলে আমি শেষ—
এদিকে পৃথিবীর সমস্ত মহিমা আমার সম্মুখে
তার উদারতা নিয়ে দাঁড়িয়ে।
তার হাত আমাকে আহত করে,
তার হৃদয় আমাকে পূজো করে।
তার কাঁটা যখন আমাকে রোগমুক্ত করে,
তার গোলাপ পুনরায় আমাকে বন্দী করে।
তারা বলে আমি শেষ—
যখন যুগেরা আমাকে আপন করে নেয়,
আমার নাম উচ্চারণে
যখন সকলে মত্ত হয়ে ওঠে।
তারা বলে আমি শেষ—
যখন প্রতিটি পথে
হাজারো মানুষ আমাকে সম্ভাষণ জানায়,
যখন ছায়া আর ঘর হেসে ওঠে।
আমি প্রতিটি হৃদয়ের উদ্দেশে মদ্যপান করি,
আমি পান করি পরম আনন্দে।
আমি বলি– হে আত্মা, তুমি মুক্ত–
তুমি যা হতে চেয়েছিলে চিরকাল, হয়ে ওঠো!

⭐

লেখাটি আপনার কেমন লাগলো? রেটিং দিন

আপনার মূল্যবান রেটিং লেখকের অনুপ্রেরণা এবং লেখার মানোন্নয়নে সহায়তা করে।

৫.০ / ৫ (১টি রেটিং)

মন্তব্য (০)

এখনও কোনো মন্তব্য করা হয়নি। আপনার মূল্যবান মতামত জানান।