বৈশাখের উত্তপ্ত নিঃশ্বাসের রাগীনি, সেদিন ক্ষান্ত দিয়েছিল।
দেখলাম—
কাদম্বিনী তার ধূসর শাড়ি গায়ে জড়িয়ে;
কুঁচবরণ দিঘল চুল হওয়ায় মিলিয়ে;
আয়তলোচনে কাজল বুলিয়ে—
আমার দিকে তার করুণার সুঘ্রাণে
আচ্ছাদিত হাত দুটো বাড়িয়ে ডাকছে।
মনে হলো—
তার কোলে মাথা রেখে,
রূপসীর পায়ের ধুলো মাথায় নিয়ে;
জীবনের সারাংশ কেটেকুটে;
ভাবসম্প্রসারণ করবো নতুন স্বপ্নের।
হলো না,
যখনই তার কোলে মাথা রাখলাম,
আমার তন্দ্রাচ্ছন্ন আঁখিদ্বয় কম্পিত হয়ে—
দুঃস্বপ্নে বিভোর হতে চাইলো।
দেখলাম—
নিশীথিনী তার রাক্ষুসে রক্তমাখা চোখ দিয়ে,
ছিঁড়ে খাচ্ছে আমার স্বপ্নকে।
তার হাতের রেখায়—
পিশাচিনীর গন্ধ।
শ্বাসরোধ করতে চাইলো—
ডাকিনীর সহস্র আঙুল।
সেদিন থেকেই আমি জীবন্মৃত,
টুকটুকে রক্তের স্রোতে ভাসমান।

