লেখক প্যানেল
সাদিয়া মুনমুন

নীলার প্রতি

নীলা,
তুমি কোথায়?
এখন গোধূলি,
পশ্চিম আকাশের কালচে মেঘ,
আর ঝলসে যাওয়া আবিরের দীর্ঘ রেখা,
আকাশের কাছ থেকে, পৃথিবীকে বিচ্ছিন্ন করেছে।
আমার জীবনের আলো আঁধারির সন্ধিক্ষণে বসে,
অসহায় চোখের দৃষ্টি অবনত করে,
তোমাকে এক টুকরো পত্র লিখছি।
অতীতের নীরব পথে,
রিক্ত পথিকের মতো হাঁটতে গিয়ে মনে পড়ল,
তোমাকে ভালোবাসি কথাটা আজকেই বলেছিলাম।

নীলা,
তোমার শাড়ির সোনালী আঁচল,
তোমার স্বামীর উত্তপ্ত নিঃশ্বাসে পুড়ে ছারখার হয়ে যায়।
অথচ ওই আঁচল, আমার পাওয়ার কথা ছিল।
রাতের কালো আকাশ থেকে,
কোটি কোটি তারার মেলায়, একলা চাঁদের ঠাণ্ডা আলো যখন,
জমিনের বুকে, অট্টহাসি দিয়ে আছড়ে পড়ে,
তোমার লাল রঙের জীবনে,
তোমার স্বামীর সহস্র চুম্বনের মধ্যে,
তোমার চোখে কি উঁকি দেয়?
তোমার আমার না হওয়া সংসারের,
বিকলাঙ্গ স্বপ্নগুলো?

যাইহোক,
তোমার চোখে সে স্বপ্ন ধরা না দিক,
কেনই বা দেবে!
আমি তো এখন আস্তাকুড়ের আবর্জনা।
আমি তোমার স্বামীর মতো,
তোমাকে অট্টালিকায় বসিয়ে,
হীরে জহরতে মুড়িয়ে,
তোমাকে মহারানী করতে পারিনি।
আমার কুঁড়ে ঘরের জীবনে,
ছোট্ট কুপির আলোতে,
তোমার চিক চিক করা চোখের দিকে তাকিয়ে,
বিরাট এক পৃথিবীর সম্রাট হবো ভেবেছিলাম।
পারিনি,
আমার পঙ্গু হয়ে যাওয়া ভালোবাসা,
আমাকে তোমার মহারাজ হতে দেয়নি।
তবুও, এই নির্মম আকাশের বিশালতার নিচে আশ্রয় নিয়ে,
জীবনের প্রতি হাজারো ভৎসনা জানানোর পরেও বলবো,
আমার মত করে তোমাকে কেউ ভালবাসতে পারবে না।

সাদিয়া মুনমুন
নাম: সাদিয়া মুনমুন। স্বামী: মরহুম মাহমুদুল হাসান। পিতা: মো: নুরুল আমিন। মাতা: নার্গিস পারভীন। থানা: সাতক্ষীরা। জেলা: সাতক্ষীরা। যে ধরনের লেখা লিখতে আগ্রহী: ছোটগল্প, প্রবন্ধ, কবিতা। যেভাবে প্রথম লেখালেখি শুরু হয়: দ্বাদশ শ্রেণীতে থাকাকালে একটা অসমাপ্ত উপন্যাস দিয়ে লেখালেখি শুরু হয়। উপন্যাসটির মূল বিষয়বস্তু ছিল সম্পূর্ণ কাল্পনিক।
বার পড়া হয়েছে
প্রকাশিত :
আগস্ট ২০, ২০২৫
শেয়ার :
পয়স্তিতে যারা লিখেছেননির্দেশিকাশর্তাবলী
১০ দিনে জনপ্রিয় লেখক
magnifiercrossmenu